কুরআনের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং কুরআনের সত্যতা। বিজ্ঞানের সাহায্যে কুরআনের পরিক্ষা।
আগেই বলে নিচ্ছি, কুরআন কোন বৈজ্ঞানিক (scientific) গ্রন্থ নয়। বরং এটি হল আল্লাহর কিছু Signs এর কিতাব। এখানে কথা প্রসঙ্গে কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য এসেছে মাত্র। সেগুলোই আমরা এই লেখাতে উল্লেখ করছি। আর সুপারফিসিয়াল সাইন্টিফিক ব্যাপার, যা বুঝা একটু কষ্টকর, এমন প্রুফগুলো এই লেখাতে উল্লেখিত হয়নি, শুধু কংক্রিট ক্লিয়ার প্রুফগুলোই উল্লেখ করা হয়েছে। শুরু করা যাক-
এক
আগে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, এই ইউনিভার্স (মহাবিশ্ব) সুস্থির, মানে তারকাগুলো নিজ নিজ অবস্থানে ফিক্সড। ১৯২৯ সালে এডউইন হাবল, সর্বপ্রথম তার অবসারভেশন হতে ডিসকভার করেন, যে এই ইউনিভার্স প্রতিনিয়ত এক্সপান্ড অর্থাৎ সম্প্রসারিত হচ্ছে। তার মানে প্রতিটা তারকা প্রতিনিয়ত অন্য তারকাগুলো হতে দূরে সরে যাচ্ছে, একটা ফুটকিওয়ালা বেলুন ফুলালে এর ফুটকিগুলো যেভাবে পরস্পর হতে দূরে সরে যায় ঠিক সেভাবে। কিন্তু আলবার্ট আইনস্টাইন সহ সমসাময়িক বিজ্ঞানীরা হাবলের রিসার্চকে মেনে নিতে পারেন নি।
পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে বিজ্ঞানী আর্নো পেনজিয়াস এবং রবার্ট উইলসন ‘কসমিস মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন’ (সংক্ষেপে CMB[১]) আবিষ্কার করেন।এই CMB radiation থেকে তারা খুব সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দেন যে মহাবিশ্ব ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে[২], সমগ্র বিশ্ব তাঁদের এই আবিষ্কারকে মেনে নেয়। ১৯৭৮ সালে তারা এজন্য নোবেল প্রাইজও পান। এখন দেখুন, কুরআন এ ব্যাপারে কি বলছে-
সূরা দারিয়াত(৫১), আয়াত ৪৭
And the heaven We constructed with strength, and indeed, We are [its] expander. [Sahih International]
AND IT IS We who have built the universe with [Our creative] power; and, verily, it is We who are steadily expanding it. [Muhammad Asad]
 আমিই স্বীয় ক্ষমতাবলে মহাবিশ্ব নির্মাণ করেছি এবং আমিই এর সম্প্রসারক। [বঙ্গানুবাদ]
[আরবীতে ‘আমি’ এই কথাটার উপর জোর দিলে ‘আমরা’ (প্লুরাল ) ব্যবহৃত হয়। এর প্রকৃত অর্থ ‘আমরা’ নয়, প্রকৃত অর্থ হল ‘আমিই’, একারণে ইংরেজী আক্ষরিক অনুবাদে ‘We’ বা ‘আমরা’ ব্যবহৃত হয়েছে]
মানে ১৪০০ বছর আগে কুরআন বলে দিয়েছে, মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে।
দুই
এখন চিন্তা করুন, যে যদি মহাবিশ্ব ক্রমাগত সম্প্রসারিত হতে থাকে, তাহলে অতীতে কি অবস্থা ছিল? অতীতে নিশ্চয় তারকাগুলো পরস্পরের অনেক কাছে ছিল, রাইট? তারও অতীতে, আরও কাছে … এভাবে চিন্তা করলে আপনি বুঝে যাবেন যে আসলে সকল তারকাপুঞ্জ আসলে একটি একক পদার্থ ছিল, এবং সেই একক পদার্থটি সম্প্রসারিত হয়েই আজকের এই মহাবিশ্ব হয়েছে। এটাই আসলে বিগ ব্যাঙ তত্ত্ব, যেটাতে আজকালকার পদার্থবিদরা ভরসা রাখেন। ভালভাবে বুঝতে দেখুন- space.com ও big-bang-theory.com
এবার অবাক হয়ে দেখুন, কুরআন কি বলছে-
সূরা আম্বিয়া(২১), আয়াত ৩০
Have those who disbelieved not considered that the heavens and the earth were a joined entity, and We separated them and made from water every living thing? Then will they not believe? [Sahih International]
কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে,আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী একক বস্তু ছিল,অতঃপর আমি উভয়কে আলাদা করলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না? [বঙ্গানুবাদ]
দেখুন, সমগ্র মহাবিশ্ব যে একটি একক বস্তু ছিল তা কুরআন উল্লেখ করেছে ১৪০০ বছর আগে। এমেইজিং নয়কি?
আরও একটা ব্যাপার, যেকোন লিভিং অবজেক্ট ‘কোষ’ দ্বারা গঠিত এবং কোষের ৭০-৮০ ভাগই পানি। তার অর্থ প্রাণবন্ত সবকিছুই আসলে পানি দ্বারা সৃষ্টি, তাইনা? এই কথাটাও এই আয়াতে বলে দেয়া হয়েছে: “প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম।”
এখন চিন্তা করুন, যদি মুহাম্মদই (সঃ) কুরআন লিখে থাকবেন, তাহলে তিনি কেন মরুভূমিতে বসে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে কি হচ্ছে না, মহাবিশ্ব একক বস্তু ছিল কি ছিল না তা চিন্তা করতে যাবেন? আর তা কেনই বা ক্বুরআনে উল্লেখ করতে যাবেন, আর তা কেনই বাস্তবতার সাথে এভাবে মিলে যাবে?
যারা নাস্তিক তারা বলবে মুহাম্মদ (সঃ) ঝড়ে বক মারছে। আচ্ছা, ঠিক আছে, তাহলে সামনে আগাই …
[এখানে আর একটি প্রশ্ন আসতে পারে, সেটা হল, বর্তমান কুরআন কি সেই কুরআন যা মুহাম্মদ (সঃ) এর উপর নাযিল হয়েছিল? নাকি তাতে অন্যকারও হাত পড়েছে? এর উত্তরে কুরআন সংরক্ষণের ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে। আসলে মুহাম্মদ (সঃ) এর সময় থেকেই কুরআনের সূরাগুলো লিখে রাখা হয়েছিল, পাতায়, চামড়ায় বা অন্য কোন লিখনীয় বস্তুতে। (তখন কাগজ ছিল না)। পরবর্তীতে ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান(রা) এর আমলে একটি পূর্ণাঙ্গ কুরআন লিখে তার কপি তৈরী করে সাম্রাজ্যের সকল জায়গায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। অধুনা উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলে কুরআনের সেই এনশিয়েন্ট কপি পাওয়া গেছে এবং তা বর্তমান কুরআনের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে, কোন পার্থক্য পাওয়া যায় নি, সবই আইডেন্টিকাল। এছাড়াও শুরু থেকেই মুসলিমরা কুরআন সম্পূর্ণ মুখস্থ করে রাখার অভ্যাস রপ্ত করেছে। কাজেই কুরআন বিকৃতির কোন সম্ভাবনা নেই। [দেখুন:tripod.com]
তিন
আমরা কি জানি, দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে লোহা ব্যবহার করি তার উৎস কি? সূর্য? না, পৃথিবী বা অন্য কোন গ্রহ বা সূর্যে এই লোহা তৈরী হয়নি। কারণ, অধুনা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে আয়রণ তৈরী হতে কয়েকশ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা লাগে, যেখানে সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রা মাত্র ৬০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সূ্র্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা মাত্র ১৫ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস। একারণে এই সৌরজগতে থাকা আয়রন এই সৌরজগতে তৈরী নয়।
মূলত, আয়রণ তৈরী হতে দরকার সূর্যের থেকে বড় গ্রহ যা আরো বেশী উচ্চ তাপমাত্রা একোমডেট করে। যা একসময় রেড জায়ান্ট, এরপর ডোয়ার্ফ, এরপর রেড সুপার জায়ান্ট, এরপর নোভাতে পরিণত হয়। এই নোভা স্টেজ এই ফিউশন বিক্রিয়ায় আয়রণ তৈরী হয়। এই নোভা একসময় বিস্ফোরিত হয় এবং তাতে উৎপন্ন লৌহ আউটার স্পেস এ মেটিওর আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
যে কারণে আর্কিওলোজিস্টদের ধারণায় পৃথিবীতে থাকা লোহা পৃথিবীর নিজস্ব নয়। বরং আউটার স্পেস থেকে বিভিন্ন লৌহ মিটিওর (উল্কা) পৃথিবীতে আসার কারণে আমরা এখন লৌহ পাচ্ছি। তার মানে, বিজ্ঞান বলে যে লৌহ বা আয়রণ পৃথিবীর বাহির থেকে এসছে, তাইনা? দেখুন- elnaggarzr.com ওmiraclesofthequran.com
এখন দেখুন কুরআন কি বলছে-
সূরা হাদীদ(৫৭), আয়াত ২৫
And We sent down iron, wherein is great military might and benefits for the people. [Sahih International]
আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। [বঙ্গানুবাদ]
এই আয়াতগুলোর বর্ণনাভঙ্গি এরকম, যে লোহাকে উপর থেকে নাযিল করা হয়েছে। চিন্তা করেন, ১৪০০ বছর আগে প্রকাশিত বইয়ে এসব তথ্য কিভাবে এলো?
চার
আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে পৃথিবীটা গোল। গোল পৃথিবী নিজ অক্ষের চারিদিকে ঘুরছে। নিজ অক্ষের চারিদিকে ঘুরার সময় পৃথিবীর যেই পৃষ্ঠটা সূর্যের দিকে থাকে, সেই পৃষ্ঠে দিন থাকে, এবং অপজিট পৃষ্ঠে রাত থাকে। পৃথিবী ঘুরতে থাকে, আর একদিকে দিন রাতের ভিতর প্রবেশ করতে থাকে এবং অপরদিকে রাত দিনের ভিতর প্রবেশ করতে থাকে। এভাবে দিন-রাত ক্রমাগত পরিবর্তন হয়। তাইনা? মূলকথা কেউ যদি না জানে যে প্রসেসটা কি সে কিন্তু এটা বুঝবেনা, কিভাবে দিন রাত্রির আবর্তন হয়, রাইট? দেখুন কুরআন কি বলছে-
সূরা লোকমান (৩১), আয়াত: ২৯
Do you not see that Allah causes the night to enter the day and causes the day to enter the night? [Sahih International]
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? [বঙ্গানুবাদ]
সূরা জুমুর (৩৯), আয়াত: ৫
He created the heavens and earth in truth. He wraps the night over the day and wraps the day over the night. [Sahih International]
তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন। [বঙ্গানুবাদ]
কুরআনের বর্ণনাভঙ্গি থেকে এটা খুব স্পষ্ট, যে যিনি এই কিতাবের রচয়িতা, তিনি জানেন, কিভাবে দিন এবং রাত আবর্তন করে।
পাঁচ
আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, সূর্যের ভিতর প্রতিনিয়ত নিউক্লিয়ার রিএকশন ঘটছে, এবং তার কারণে সূর্য প্রতিনিয়ত তাপ ও আলো বিকিরণ করছে। তার মানে সূর্যের আলো, তার নিজস্ব আলো।
কিন্তু চাঁদের যে আলো আমরা দেখি, তা আসলে চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নয়; বরং সূর্যের আলো চাঁদে পড়ে তা প্রতিফলিত হয় পৃথিবীতে আসে, এবং আমরা উজ্জ্বল চাঁদ দেখতে পাই। তার মানে চাঁদের আলো আসলে প্রতিফলিত আলো।
কুরআন বলছে-
সূরা ফুরকান(২৫), আয়াত ৬১
Blessed is He who has placed in the sky great stars and placed therein a [burning] lamp and luminous moon. [Sahih International]
কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন প্রদীপ ও দীপ্তিময় চন্দ্র। [বঙ্গানুবাদ]
সূরা নূহ(৭১), আয়াত ১৬
And made the moon therein a [reflected] light and made the sun a burning lamp. [Sahih International]
এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে। [বঙ্গানুবাদ]
সূরা ইউনুস(১০), আয়াত ৫
It is He who made the sun a shining light and the moon a derived light and determined for it phases – that you may know the number of years and account [of time]. Allah has not created this except in truth. He details the signs for a people who know. [Sahih International]
তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মনযিল সমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যথার্থতার সাথে। তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণসমূহ সে সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে। [বঙ্গানুবাদ]
(কুরআন সূর্যকে প্রদীপ এবং চন্দ্রকে দীপ্তিময় /স্নিগ্ধ আলো বা ডেরাইভড লাইট বলছে)
ইন্টারেস্টিং, তাইনা? কুরআন ভুল করছে না কোথাও, রাইট?
এক
আগে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, এই ইউনিভার্স (মহাবিশ্ব) সুস্থির, মানে তারকাগুলো নিজ নিজ অবস্থানে ফিক্সড। ১৯২৯ সালে এডউইন হাবল, সর্বপ্রথম তার অবসারভেশন হতে ডিসকভার করেন, যে এই ইউনিভার্স প্রতিনিয়ত এক্সপান্ড অর্থাৎ সম্প্রসারিত হচ্ছে। তার মানে প্রতিটা তারকা প্রতিনিয়ত অন্য তারকাগুলো হতে দূরে সরে যাচ্ছে, একটা ফুটকিওয়ালা বেলুন ফুলালে এর ফুটকিগুলো যেভাবে পরস্পর হতে দূরে সরে যায় ঠিক সেভাবে। কিন্তু আলবার্ট আইনস্টাইন সহ সমসাময়িক বিজ্ঞানীরা হাবলের রিসার্চকে মেনে নিতে পারেন নি।
পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে বিজ্ঞানী আর্নো পেনজিয়াস এবং রবার্ট উইলসন ‘কসমিস মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন’ (সংক্ষেপে CMB[১]) আবিষ্কার করেন।এই CMB radiation থেকে তারা খুব সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দেন যে মহাবিশ্ব ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে[২], সমগ্র বিশ্ব তাঁদের এই আবিষ্কারকে মেনে নেয়। ১৯৭৮ সালে তারা এজন্য নোবেল প্রাইজও পান। এখন দেখুন, কুরআন এ ব্যাপারে কি বলছে-
সূরা দারিয়াত(৫১), আয়াত ৪৭
And the heaven We constructed with strength, and indeed, We are [its] expander. [Sahih International]
AND IT IS We who have built the universe with [Our creative] power; and, verily, it is We who are steadily expanding it. [Muhammad Asad]
 আমিই স্বীয় ক্ষমতাবলে মহাবিশ্ব নির্মাণ করেছি এবং আমিই এর সম্প্রসারক। [বঙ্গানুবাদ]
[আরবীতে ‘আমি’ এই কথাটার উপর জোর দিলে ‘আমরা’ (প্লুরাল ) ব্যবহৃত হয়। এর প্রকৃত অর্থ ‘আমরা’ নয়, প্রকৃত অর্থ হল ‘আমিই’, একারণে ইংরেজী আক্ষরিক অনুবাদে ‘We’ বা ‘আমরা’ ব্যবহৃত হয়েছে]
মানে ১৪০০ বছর আগে কুরআন বলে দিয়েছে, মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে।
দুই
এখন চিন্তা করুন, যে যদি মহাবিশ্ব ক্রমাগত সম্প্রসারিত হতে থাকে, তাহলে অতীতে কি অবস্থা ছিল? অতীতে নিশ্চয় তারকাগুলো পরস্পরের অনেক কাছে ছিল, রাইট? তারও অতীতে, আরও কাছে … এভাবে চিন্তা করলে আপনি বুঝে যাবেন যে আসলে সকল তারকাপুঞ্জ আসলে একটি একক পদার্থ ছিল, এবং সেই একক পদার্থটি সম্প্রসারিত হয়েই আজকের এই মহাবিশ্ব হয়েছে। এটাই আসলে বিগ ব্যাঙ তত্ত্ব, যেটাতে আজকালকার পদার্থবিদরা ভরসা রাখেন। ভালভাবে বুঝতে দেখুন- space.com ও big-bang-theory.com
এবার অবাক হয়ে দেখুন, কুরআন কি বলছে-
সূরা আম্বিয়া(২১), আয়াত ৩০
Have those who disbelieved not considered that the heavens and the earth were a joined entity, and We separated them and made from water every living thing? Then will they not believe? [Sahih International]
কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে,আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী একক বস্তু ছিল,অতঃপর আমি উভয়কে আলাদা করলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না? [বঙ্গানুবাদ]
দেখুন, সমগ্র মহাবিশ্ব যে একটি একক বস্তু ছিল তা কুরআন উল্লেখ করেছে ১৪০০ বছর আগে। এমেইজিং নয়কি?
আরও একটা ব্যাপার, যেকোন লিভিং অবজেক্ট ‘কোষ’ দ্বারা গঠিত এবং কোষের ৭০-৮০ ভাগই পানি। তার অর্থ প্রাণবন্ত সবকিছুই আসলে পানি দ্বারা সৃষ্টি, তাইনা? এই কথাটাও এই আয়াতে বলে দেয়া হয়েছে: “প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম।”
এখন চিন্তা করুন, যদি মুহাম্মদই (সঃ) কুরআন লিখে থাকবেন, তাহলে তিনি কেন মরুভূমিতে বসে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে কি হচ্ছে না, মহাবিশ্ব একক বস্তু ছিল কি ছিল না তা চিন্তা করতে যাবেন? আর তা কেনই বা ক্বুরআনে উল্লেখ করতে যাবেন, আর তা কেনই বাস্তবতার সাথে এভাবে মিলে যাবে?
যারা নাস্তিক তারা বলবে মুহাম্মদ (সঃ) ঝড়ে বক মারছে। আচ্ছা, ঠিক আছে, তাহলে সামনে আগাই …
[এখানে আর একটি প্রশ্ন আসতে পারে, সেটা হল, বর্তমান কুরআন কি সেই কুরআন যা মুহাম্মদ (সঃ) এর উপর নাযিল হয়েছিল? নাকি তাতে অন্যকারও হাত পড়েছে? এর উত্তরে কুরআন সংরক্ষণের ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে। আসলে মুহাম্মদ (সঃ) এর সময় থেকেই কুরআনের সূরাগুলো লিখে রাখা হয়েছিল, পাতায়, চামড়ায় বা অন্য কোন লিখনীয় বস্তুতে। (তখন কাগজ ছিল না)। পরবর্তীতে ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান(রা) এর আমলে একটি পূর্ণাঙ্গ কুরআন লিখে তার কপি তৈরী করে সাম্রাজ্যের সকল জায়গায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। অধুনা উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলে কুরআনের সেই এনশিয়েন্ট কপি পাওয়া গেছে এবং তা বর্তমান কুরআনের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে, কোন পার্থক্য পাওয়া যায় নি, সবই আইডেন্টিকাল। এছাড়াও শুরু থেকেই মুসলিমরা কুরআন সম্পূর্ণ মুখস্থ করে রাখার অভ্যাস রপ্ত করেছে। কাজেই কুরআন বিকৃতির কোন সম্ভাবনা নেই। [দেখুন:tripod.com]
তিন
আমরা কি জানি, দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে লোহা ব্যবহার করি তার উৎস কি? সূর্য? না, পৃথিবী বা অন্য কোন গ্রহ বা সূর্যে এই লোহা তৈরী হয়নি। কারণ, অধুনা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে আয়রণ তৈরী হতে কয়েকশ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা লাগে, যেখানে সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রা মাত্র ৬০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সূ্র্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা মাত্র ১৫ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস। একারণে এই সৌরজগতে থাকা আয়রন এই সৌরজগতে তৈরী নয়।
মূলত, আয়রণ তৈরী হতে দরকার সূর্যের থেকে বড় গ্রহ যা আরো বেশী উচ্চ তাপমাত্রা একোমডেট করে। যা একসময় রেড জায়ান্ট, এরপর ডোয়ার্ফ, এরপর রেড সুপার জায়ান্ট, এরপর নোভাতে পরিণত হয়। এই নোভা স্টেজ এই ফিউশন বিক্রিয়ায় আয়রণ তৈরী হয়। এই নোভা একসময় বিস্ফোরিত হয় এবং তাতে উৎপন্ন লৌহ আউটার স্পেস এ মেটিওর আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
যে কারণে আর্কিওলোজিস্টদের ধারণায় পৃথিবীতে থাকা লোহা পৃথিবীর নিজস্ব নয়। বরং আউটার স্পেস থেকে বিভিন্ন লৌহ মিটিওর (উল্কা) পৃথিবীতে আসার কারণে আমরা এখন লৌহ পাচ্ছি। তার মানে, বিজ্ঞান বলে যে লৌহ বা আয়রণ পৃথিবীর বাহির থেকে এসছে, তাইনা? দেখুন- elnaggarzr.com ওmiraclesofthequran.com
এখন দেখুন কুরআন কি বলছে-
সূরা হাদীদ(৫৭), আয়াত ২৫
And We sent down iron, wherein is great military might and benefits for the people. [Sahih International]
আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। [বঙ্গানুবাদ]
এই আয়াতগুলোর বর্ণনাভঙ্গি এরকম, যে লোহাকে উপর থেকে নাযিল করা হয়েছে। চিন্তা করেন, ১৪০০ বছর আগে প্রকাশিত বইয়ে এসব তথ্য কিভাবে এলো?
চার
আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে পৃথিবীটা গোল। গোল পৃথিবী নিজ অক্ষের চারিদিকে ঘুরছে। নিজ অক্ষের চারিদিকে ঘুরার সময় পৃথিবীর যেই পৃষ্ঠটা সূর্যের দিকে থাকে, সেই পৃষ্ঠে দিন থাকে, এবং অপজিট পৃষ্ঠে রাত থাকে। পৃথিবী ঘুরতে থাকে, আর একদিকে দিন রাতের ভিতর প্রবেশ করতে থাকে এবং অপরদিকে রাত দিনের ভিতর প্রবেশ করতে থাকে। এভাবে দিন-রাত ক্রমাগত পরিবর্তন হয়। তাইনা? মূলকথা কেউ যদি না জানে যে প্রসেসটা কি সে কিন্তু এটা বুঝবেনা, কিভাবে দিন রাত্রির আবর্তন হয়, রাইট? দেখুন কুরআন কি বলছে-
সূরা লোকমান (৩১), আয়াত: ২৯
Do you not see that Allah causes the night to enter the day and causes the day to enter the night? [Sahih International]
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? [বঙ্গানুবাদ]
সূরা জুমুর (৩৯), আয়াত: ৫
He created the heavens and earth in truth. He wraps the night over the day and wraps the day over the night. [Sahih International]
তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন। [বঙ্গানুবাদ]
কুরআনের বর্ণনাভঙ্গি থেকে এটা খুব স্পষ্ট, যে যিনি এই কিতাবের রচয়িতা, তিনি জানেন, কিভাবে দিন এবং রাত আবর্তন করে।
পাঁচ
আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, সূর্যের ভিতর প্রতিনিয়ত নিউক্লিয়ার রিএকশন ঘটছে, এবং তার কারণে সূর্য প্রতিনিয়ত তাপ ও আলো বিকিরণ করছে। তার মানে সূর্যের আলো, তার নিজস্ব আলো।
কিন্তু চাঁদের যে আলো আমরা দেখি, তা আসলে চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নয়; বরং সূর্যের আলো চাঁদে পড়ে তা প্রতিফলিত হয় পৃথিবীতে আসে, এবং আমরা উজ্জ্বল চাঁদ দেখতে পাই। তার মানে চাঁদের আলো আসলে প্রতিফলিত আলো।
কুরআন বলছে-
সূরা ফুরকান(২৫), আয়াত ৬১
Blessed is He who has placed in the sky great stars and placed therein a [burning] lamp and luminous moon. [Sahih International]
কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন প্রদীপ ও দীপ্তিময় চন্দ্র। [বঙ্গানুবাদ]
সূরা নূহ(৭১), আয়াত ১৬
And made the moon therein a [reflected] light and made the sun a burning lamp. [Sahih International]
এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে। [বঙ্গানুবাদ]
সূরা ইউনুস(১০), আয়াত ৫
It is He who made the sun a shining light and the moon a derived light and determined for it phases – that you may know the number of years and account [of time]. Allah has not created this except in truth. He details the signs for a people who know. [Sahih International]
তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মনযিল সমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যথার্থতার সাথে। তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণসমূহ সে সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে। [বঙ্গানুবাদ]
(কুরআন সূর্যকে প্রদীপ এবং চন্দ্রকে দীপ্তিময় /স্নিগ্ধ আলো বা ডেরাইভড লাইট বলছে)
ইন্টারেস্টিং, তাইনা? কুরআন ভুল করছে না কোথাও, রাইট?
না কেটে পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইলো।
উত্তরমুছুন